ভারতীয় পণ্য না আসায়, পাকিস্তানে ঈদের আনন্দ ফিকে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। এনিয়ে একধরণের বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। তাই ঈদের মুখে সে দেশে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। কূটনেতিক স্তরে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান সরকার সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস জোগর করতেই নাজেহাল হয়ে পড়ছে জনগন। ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ, টমেটো-সহ বিভিন্ন সবজি পাকিস্তানের কাঁচা বাজারের চাহিদা মেটায়। তাদের উদ্বেগ, মুদ্রাস্ফীতির জেরে এমনিই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। তার উপরে ভারত থেকে পেঁয়াজ ও অন্যান্য আনাজ আমদানি বন্ধ হওয়ায় চাপ আরও বাড়ছে।

ইসলামাবাদের এক গৃহবধূ নাজমা জানিয়েছেন , ‘মুদ্রাস্ফীতি এমনিতেই আমাদের রান্নাঘরের বাজেট বাড়িয়ে দিয়েছে। আয় বাড়েনি। দুধ থেকে সবজি, মাংস থেকে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এর পর ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

জিনিসপত্রের আশঙ্কায় ভুগছেন রাস্তার সবজি বিক্রেতা ইফতিকারও। তাঁর আশঙ্কা, ‘ইদের আর মাত্র ৩-৪ দিন বাকী। বাজার একেবারে মন্দা। সবজি-পেঁয়াজের জন্য আমরা ভারতের ওপরে নির্ভরশীল। সবজি দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে এবার। আমরা কী খাব? ইমরান খান কী চাইছেন জানি না।’

ব্যাংক কর্মী আসফাক বলেন, ‘ঈদের রোশনাই এবার ফিকে হয়ে গেছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত করার পিছনে ইমরান সরকারের কী ভাবনা বুঝতে পারছি না।’ ভারত থেকে টমেটো না যাওয়ায় ইতিমধ্যে দেশটিতে টমেটোর কেজি ৩০০ টাকার বেশি। তথ্য সূত্র: এএনআই, জি নিউজ।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ ও রাজ্যকে দুটি প্রশাসনিক এলাকায় ভাগ করা নিয়ে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধ। সমঝোতা ও থর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিও বাতিল করেছে তারা। পুলওয়ামা হামলার পরে পাক পণ্যে ২০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বড় ধাক্কা খেয়েছিল তখন। এখন কাশ্মীর নিয়ে দড়ি টানাটানিতে বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ।

আগস্ট ১১, ২০১৯ at ০১:১৫:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/কেএ/তআ