হ-য-ব-র-ল অবস্থায় চলছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিশু শিক্ষালয় নবকিশয় প্রি-ক্যাডেট স্কুল

মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রধান শিক্ষক আর মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে হ-য-ব-র-ল ভাবে চলছে যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিশু শিক্ষাপীঠ নবকিশলয় প্রি-ক্যাডেট নার্সারি স্কুল। ১৯৮০সালে যশোর জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মহিউদ্দীন খান আলমগীরের স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় শহরের ভোলাট্যাংক রোডে কিশলয় নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফজলুর রহমান বর্তমান স্থানে নবকিশলয় প্রি-ক্যাডেট স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। দিনে দিনে স্কুলটির শ্রি বৃদ্ধি ঘটলেও স্থাপিত হওয়ার ৩৮ বছর এসে বিদ্যালয়টি হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য।

চার বছর আগে বর্তমান প্রধান শিক্ষক আতাহার রহমান যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়টির শ্রি বৃদ্ধি ঘটলেও পতন ঘটতে থাকে শিক্ষার মানের। যোগদানের পর থেকেই নানা নিয়মের বেড়াজাল তৈরি করে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের মাঝে তিনি আতংকিত মহাপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হন। যোগদানের মাত্র কিছুদিনের মাথাতেই তিনি শিশুদের (নার্সারী ও কেজি শ্রেণি) জন্য বিদ্যালয়ে টিফিন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন। কিন্তু নিজের টিফিন ঠিকই নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে খেয়ে চলেছেন আজও। আর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে শ্রেণি শিক্ষকের øেহের সুযোগ নিয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে টিফিন করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘœ ঘটছে আর শিক্ষার মান হচ্ছে নিুমুখি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যববহার করেন।

এমনকি তিনি এক অভিভাবককে বলেন ‘আমি ইংরেজি বুঝি না, বাংলায় বলেন।’ প্রশ্ন হলো যিনি ইংরেজি বোঝেন না তিনি কিভাবে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেন ? তবে বিষয়টি হয়তো এমন নয় যে তিনি ইংরেজি বোঝেন না। তিনি হয়তো মজা করেছেন ওই অভিভাবকের সাথে কিন্তু একজন প্রধান শিক্ষক কী অফিসিয়ালি কোন অভিভাবকের সাথে মজা করতে পারেন ?

হয়তো পারেন ! কারণ তিনি তো অনেক বিচক্ষণ ও ক্ষমতাধর প্রধান শিক্ষক। তাইতো চাকরির বয়সসীমা (৬৫ বছর) শেষ হয়ে গেলেও তার চাকরি এখনো বহাল তবিয়তে আছে। কোন যাদুমন্ত্রে তিনি এটা করেছেন তা অভিভাবক বা সহ-শিক্ষকরা কেউই জানেন না। আর জানবেন ই কিভাবে। জানতে গেলেই তো ক্ষমতাধর প্রধান শিক্ষকের খড়গের নিচে পড়তে হবে। আর চাকরি হারাতে হবে নতুবা হতে হবে সম্মানহানীর শিকার। তাইতো দিন দিন স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও যে শিক্ষকরা শিশুদের মেধা-মনন গঠনে নিরলস কাজ করেন শ্রেণিকক্ষে তারা গোপনে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেন না।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রধান শিক্ষক উত্তর দেন কোথায় শিক্ষার্থী ঝরছে দেখেন তো গতবছর কতজন শিক্ষার্থী ছিল আর এ বছর কতজন আছে। এখানেও আছে তার বিচক্ষণতার তেলেসমাতি। যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্যও অন্তত মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। সেখানে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠে এখন আর ভর্তির জন্য কাউকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়না। বছরের যে কোন সময় এসে একটি ফরম কিনে নগদ টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়া যায় যে কোন ক্লাসে। এতে করে ফুলে ফেঁপে উঠছে স্কুলের কোষাগার। কারণ এটি তো এখন আর বিদ্যালয় নয় যেন একটি লাভজনক দোকানঘর। তাই এই দোকানঘরের শ্রি বৃদ্ধির নামে বাড়ানো হচ্ছে ক্লাস রুমের সংখ্যা। আর এসব নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ এডহক কমিটির নামে পরিচালিত নির্বাহী কমিটি দিয়ে।

ঠিক কবে নির্বাহী কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তা আজকের এডহক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বলতে পারবেন না। যাদের নিজেদেরই বৈধতা নেই তারা একের পর এক বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের। যে সকল উন্নয়ন কাজের নেই কোন অডিট রিপোর্ট। জনশ্র“তি রয়েছে এ সকল উন্নয়ন কাজের সাথে তাদেরও ব্যক্তি পর্যায়ে উন্নয়ন হয়েছে ক্ষমতাবান প্রধান শিক্ষকের বিচক্ষণতায়। এজন্য সকল কমিটির সদস্যদের কাছে তিনি বেশ প্রিয়ভাজন বলেই জানা যায়।

আর তাই প্রতিবছর শিক্ষার মান হারিয়ে ও শিক্ষার্থী ঝরে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠটি যখন ধুকছে তখন শ্রিবৃদ্ধি ঘটছে বিচক্ষণ প্রধান শিক্ষক আর গরম তেলে পরোটা ভেজে নেয়া মেয়াদ উত্তীর্ণ নির্বাহী কমিটি নামক এডহক কমিটির সদস্যদের। স্কুলের সাধারণ অভিভাবক ও জেলার সকল স্তরের শিক্ষানুরাগীদের দাবি বিদ্যালয়ের সভাপতি মহোদয় বিষয়গুলি অত্যন্ত যতেœর সাথে দেখবেন এবং বিদ্যালয়টির সুনাম রক্ষা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।